• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

হাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য আবুল কাশেমের দায়িত্ব গ্রহণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আব্দুল হামিদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ’র কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেমকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
রোববার (৫ ফ্রেবুয়ারী) বিকেল সোয়া ৪টায় হাবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম কর্তৃক সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম ১৯৫৩ সালে বৃহত্তর রংপুর জেলার হাতীবান্ধা থানাধীন বড়খাতা ইউনিয়নের আরাজী শেখ সুন্দর গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে বি.এসসি. এজি. (অনার্স) ডিগ্রী ও ১৯৭৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগ থেকে এম.এসসি. (এজি. এক্সস্ট. এড.) ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যোর রিডিং বিশ^বিদ্যালয় থেকে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ লেকচারার এবং ১৯৮১ সালে কৃষি সম্প্রসারণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৯৩ সালে তিনি অধ্যাপক পদে যোগদান করেন।
১৯৭৯ সালে তিনি ”সম্প্রসারণ শিক্ষা, প্রশাসন ও তদারকী” বিষয়ের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উইসকাসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গমণ করেন। ১৯৯৭-৯৮ সালে তিনি জে.এস.পি.এস. ফেলোশীপ নিয়ে জাপানের হিরোশিমা ইউনির্ভাসিটিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা কর্ম সম্পাদন করেন। বিশ্বব্যাংক, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ডি.এফ.আই.ডি (ইউ.কে.), ওয়াল্ড-ফিশ সেন্টার, এ.এ.আই.ডি.এ. অস্ট্রেলিয়া এর আর্থিক সহায়তায় ১৫ টি গবেষণা প্রকল্পের মূল গবেষক হিসেবে গবেষণা সম্পাদনা করেন। মোট ১২ জন ছাত্র তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রি ও ৫০ জন এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী এম.এস. ডিগ্রী  অর্জন করেন। আর্থ সামাজিক, যোগাযোগ, প্রশাসন, জেন্ডার ডেভেলাপমেন্ট ও উচ্চ শিক্ষার মানন্নোয়ন বিষয়ে তিনি ১৫ টি সংস্থায় কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় এর কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগ এবং ভাষা বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান এর দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক), কৃষি মিউজিয়াম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যসুর‌্যান্স সেল (আইকিউএসি) এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী, জাপান, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ তিনি ২৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। দুইটি টেক্সট বই প্রকাশসহ আরো ৭টি সংকলিত বইয়ে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক জার্নালে ৩৪টি এবং দেশীয় জার্নালে তার ১৪৩টি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর ২৫টি গবেষণামূলক টেকনিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং ৯টি পপুলার আর্টিকেল বাংলাদেশ অভজারভার ও ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জার্নাল অব এক্সটেনশন’র এডিটর হিসেবে ৪ বছর ও প্রগ্রেসিভ এগ্রিকালচারিস্ট জার্নাল এর এডিটর হিসেবে ২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ এক্সটেনশন সোসাইটির সভাপতি হিসেবে ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়, দিনাজপুর এর উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায়  শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পে কোয়ালিটি এ্যাসুর‌্যান্স স্পেশালিষ্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌছলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী পৃথক পৃথকভাবে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উপাচার্য-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকবৃন্দের সাথে পৃথকভাবে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ